Dhaka University Biochemistry Alumni in North America

Dr. Ahsan Rahman
Oct 13, 2025
ফিজিওলজি এবং মেডিসিনে নোবেল প্রাইজ ২০২৫ পাওয়া বিজ্ঞানীদের গল্প ফেইসবুকে বেশ সাড়া ফেলেছে। এটি বেশ উৎসাহ ব্যঞ্জক। আজে বাজে আলাপের চাইতে এই রকম নিউজ/আলোচনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জরুরী ।
যাইহোক, এই তিন বিজ্ঞানীর কথা সবাই জেনেছি, তারা কি কাজের জন্য পেলেন সেটিও জেনেছি। আমি বরং জানাই সেই কাজের ইতিহাস। কিভাবে তারা সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন। তাদের আবিষ্কারের আর্টিকেলগুলোও দিলাম ।
ঘটনার শুরু ১৯৫০ সালের দিকে যখন বারমিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর Peter Brian Medawar ও তাঁর সহকর্মীরা (Rupert Billingham এবং Leslie Brent) পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করেন যে যদি ভ্রূণ বা নবজাতক ইঁদুর-এর শরীরে অন্য জাতের ইঁদুরের প্লীহা বা spleen cell ইনজেকশন করা হয়, তবে বড় হয়ে ওঠার পর সেই গ্রহীতা ইঁদুর দাতা ইঁদুরের ত্বক প্রতিস্থাপন (skin graft) কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে অর্থাৎ গ্রহীতার শরীরের কোন রিজেকশন বা প্রতিক্রিয়া হয় না। সহজ ভাষায় ইঁদুরের শরীর ভ্রূণ অবস্থায় যেসব কোষের সঙ্গে পরিচিত হয় তাদেরকে সে “নিজের” অংশ হিসেবে মানতে শেখে। তাঁদের এই এক্সপেরিমেন্ট প্রমাণ করে যে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ বা ইমিউন সিস্টেম জন্মগতভাবে ‘প্রোগ্রামড’ নয়, বরং জন্মের পর (বাচ্চারা যেভাবে শেখে ) শিখে ফেলে কে "নিজের বা আপন " আর কে "পর"। এই প্রসেসটি কে বলা হয় একোয়ার্ড ইমিউনো টলেরেন্স (acquired immunological tolerance)। এই ধারণাই ভবিষ্যতের প্রতিস্থাপন চিকিৎসার ভিত্তি গড়ে দেয়। এই গবেষণার জন্য Medawarজ ও Burnet 1960 সালে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁদের কাজের সূত্র ধরেই পরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন (organ transplantation) এবং অটোইমিউন রোগে টলারেন্স পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হলেই তো কথাই ছিলনা। এই ঐতিহাসিক এক্সপেরিমেন্টের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা খুঁজতে থাকেন আমাদের শরীর কিভাবে এই টলারেন্স ধরে রাখে-যাকে বলা হয় ইমিউনো টলারেন্স ? আর সারাজীবনই বা কিভাবে আমাদের শরীর কোন কোষ "আপন" বা কে "পর" এই রীতি মেনে চলে? তার আগে জানিয়ে রাখি আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম "মূলত" শ্বেত রক্তকণিকা বা T সেলের উপর নির্ভর করে । প্রতিটি T সেলের আবার নিজস্ব রিসেপ্টর থাকে, যা সাধারণত জীবাণু বা বাইরের কোন কোষ অথবা শরীরের ক্ষতিকর কোষকে শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে। কিন্তু এই রিসেপ্টর তৈরির প্রক্রিয়ায় কিছু T সেল ভুলক্রমে শরীরের নিজের কোষকে (self -recognizing) শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলে । এদের কে বলা হয় সেলফ রিএক্টিং (self -reacting) আর যদি এই ক্ষতিকারক টি সেলগুলো শরীরে বেড়ে যায়, তখন তারা নিজের শরীরের টিস্যু সহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে—যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে অটো ইমিউনো ডিজিজ ( autoimmune disease)।
